কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক কার্নি। এর মাধ্যমে দেশটিতে জাস্টিন ট্রুডো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ট্রুডো তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

0
69
ছবি: সংগৃহীত

রোববার (৯ মার্চ) রাতে কানাডার ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি মার্ক কার্নিকে নতুন দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যেখানে কার্নি বিজয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এখন কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন।

তিনি এমন সময় দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপকে তিনি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। কার্নি বলেন, “আমরা এই বাণিজ্য দ্বন্দ্ব চাইনি, কিন্তু কানাডিয়ানরা সবসময় প্রস্তুত থাকে। হকি খেলায় যেমন আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তেমনি বাণিজ্য লড়াইয়েও কানাডা পিছিয়ে থাকবে না।”

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে অভিহিত করে কটাক্ষ করেন এবং জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর ট্রুডো’ বলে সম্বোধন করেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কার্নি বলেন, “আমেরিকা কখনোই কানাডা হবে না, আর কানাডা কখনোই আমেরিকার অংশ হবে না।”

সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার গভর্নর জেনারেলের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মার্ক কার্নি। গভর্নর জেনারেল যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির সাংবিধানিক প্রধান।

এদিকে, কার্নি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিলের শেষ দিকে কানাডায় সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাস্টিন ট্রুডো। ২০১৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে থাকে, যার ফলে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here