রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় একটি সন্দেহভাজন রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করে দেশটির ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই ন্যাটো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি রাশিয়ার তৈরি একটি খ-১০১ (Kh-101) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন ও উৎস নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামের একটি ফাঁকা এলাকায় আঘাত হানে। এতে একটি বড় গর্ত তৈরি হলেও কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া একই রাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ২৮০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হন। হামলার কারণে কিয়েভ, লভিভসহ একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার পর পোল্যান্ড ও ন্যাটো দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। ন্যাটোর পক্ষ থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং আকাশস্থ আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করা হয়। জোটের এক মুখপাত্র বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আকাশসীমা ও ভূখণ্ড রক্ষায় ন্যাটো প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ঘটনাটিকে রাশিয়ার “বেপরোয়া পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের এটি একটি বিপজ্জনক পরিণতি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও দাবি করেছেন, একটি রুশ খ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং বাল্টিক অঞ্চলের কয়েকটি দেশে এর আগেও লক্ষ্যভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই ঘটনা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।