তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা কারাগারে

0
2
তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা কারাগারে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক সন্তানের জননীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান। এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি। পাশাপাশি বাড়ির পাশের একটি ফার্মেসিতে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন এবং স্থানীয়ভাবে তাবিজ দেওয়ার কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী নিয়মিত ওই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতেন। সেই সূত্রে অভিযুক্ত তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো। একপর্যায়ে ওই নারী তার ১১ বছর বয়সী ভাইঝির পড়াশোনার বিষয়ে তাবিজ নেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত তাকে ফার্মেসির পরিবর্তে নিজের বাড়িতে যেতে বলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ওই নারী অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান বা অন্য কাউকে না দেখে ওই নারী বের হয়ে আসতে চাইলে তাকে টানাহেঁচড়া করে হিজাব ও বোরখা খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুন: মাদকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিএনপি নেতার মাইকিং

স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যার পর একজন নারীকে বাড়িতে আনা দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে ঘরের ভেতরে দুজনকে দেখতে পান। তখন ওই নারী অভিযোগ করেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান।

এদিকে, মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা জেনেছেন। অভিযোগের বিষয়ে দলীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here