বাবার শেষযাত্রায় মেসি, মায়ামির মাঠে নীরব শ্রদ্ধা

0
32
বাবার শেষযাত্রায় মেসি, মায়ামির মাঠে নীরব শ্রদ্ধা

ফুটবল মাঠে তখন মেসি নেই! কিন্তু মাঠজুড়ে যেন তারই উপস্থিতি। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে উঠেছে একটি নাম-হোর্হে মেসি। গোলাপি পটভূমিতে লেখা, ‘হোর্হে মেসি, ১৯৫৮-২০২৬।’ গ্যালারি থেকে মাঠ-সবখানেই নেমে এসেছে নীরবতা। কয়েক হাজার মাইল দূরে তখন বাবার শেষ বিদায়ে ছুটছেন লিওনেল মেসি!

দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুরের পর মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর আর অপেক্ষা করেননি আর্জেন্টাইন তারকা। ইন্টার মায়ামির ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে ব্যক্তিগত বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে রোজারিওতে পৌঁছান মেসি। সেখানেই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার কথা তার। হোর্হে মেসির শেষকৃত্যও সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। তবে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মেসির বাড়ি ও সমাধিস্থলের আশপাশে ভিড় করতে শুরু করেছেন ভক্তরা।

বাবার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বরাবরই ছিল গভীর। বিশ্বকাপের সময়ও হোর্হে মেসির অসুস্থতার খবর ছিল পরিবারের জন্য উদ্বেগের। বিশ্বকাপের পর দলের সঙ্গে না ফিরে মেসি আলাদাভাবে আর্জেন্টিনায় গিয়ে বাবার পাশে সময় কাটিয়েছিলেন। পরে মেজর লিগ সকারের মৌসুম শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। কিন্তু বাবার মৃত্যুসংবাদ তাকে আবারও ফিরিয়ে নিল নিজের শহরে।

মেসির অনুপস্থিতিতে রোববার ভোরে মন্টেরির বিপক্ষে লিগস কাপের ম্যাচে মাঠে নামে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরে গেলেও ফলাফল ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল অন্য এক বিষয়-মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।

ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকেরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। মায়ামির খেলোয়াড়েরা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। দলের নিয়মিত অধিনায়ক মেসি না থাকায় তার দায়িত্বের আর্মব্যান্ডটি পরেন রদ্রিগো দে পল।

শুধু সেখানেই থামেনি শ্রদ্ধা। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় হোর্হে মেসির নাম ও জন্ম-মৃত্যুর সাল প্রদর্শন করা হয়। মায়ামির খেলোয়াড়দের জন্য সেটি ছিল নিছক একটি ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিকতা নয়; ছিল সতীর্থের পরিবারের প্রতি সম্মান জানানোর মুহূর্ত।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে মায়ামির হয়ে গোল করেন রদ্রিগো দে পল। গোলের পর নিজের জার্সির নিচে থাকা মেসির জার্সি বের করে দেখান তিনি। সেই গোল উৎসর্গ করেন মেসি ও তার পরিবারের প্রতি। মাঠে মেসি ছিলেন না, কিন্তু তার উপস্থিতি যেন অনুভূত হচ্ছিল প্রতিটি আবেগঘন মুহূর্তে।

মেসির বাবার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব, ফুটবল ফেডারেশন ও খেলোয়াড় শোক জানিয়েছেন। তবে সেসব বার্তার মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি করেছে লুইস সুয়ারেজের বার্তা। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় থেকে মেসি ও সুয়ারেজের বন্ধুত্ব। মাঠের সেই সম্পর্ক বহু আগেই গড়িয়েছে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতায়।

সুয়ারেজ লিখেছেন, ‘বন্ধু, তোমাকে ও তোমার পুরো পরিবারকে বড় একটি আলিঙ্গন পাঠাচ্ছি। তোমার বাবা ওপর থেকে আগের মতোই গর্বের সঙ্গে তোমাকে দেখে যাবেন। এই কঠিন সময়ে মেসি পরিবারের প্রতি আমার সব ভালোবাসা। হোর্হে, শান্তিতে বিশ্রাম নাও।’

বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেই মেসিকে এখন সামলাতে হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। ইন্টার মায়ামি কর্তৃপক্ষও তার ফেরার বিষয়ে কোনো তাড়া দিচ্ছে না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পরই আবার মাঠে ফেরার সুযোগ পাবেন তিনি।

হোর্হে মেসির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শুধু বাবা-ছেলের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফুটবলজীবনের দীর্ঘ পথচলায় বাবার উপস্থিতি ছিল তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই মানুষটিকে হারিয়ে মেসি এখন আর্জেন্টিনায়। আর মায়ামির মাঠে তার সতীর্থরা দেখিয়ে দিলেন-কখনো কখনো একজন খেলোয়াড় মাঠে না থেকেও পুরো ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে থাকেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here