ইরানের হামলার হুমকিতে ন্যাটো সম্মেলন শেষে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প

0
5
ইরানের হামলার হুমকিতে ন্যাটো সম্মেলন শেষে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প

ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই তাকে অন্য একটি বিমানে নেওয়া হয়েছিল।

ওহাইওতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী তাকে ভিন্ন ফ্লাইট ও বিমানে যেতে বলেছিল। তাই তাদের নির্দেশনা মেনেই তিনি বিমান পরিবর্তন করেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি ধারণা করছেন সেখানে কোনো হুমকি ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে অনেক হুমকি রয়েছে, যার অনেকগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানেন না।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। পরে গোপনে তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যে পাশে দিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছিলেন, তার বিপরীত পাশে একটি ক্যাটারিং ট্রাককে বিমানের দরজার সমান উচ্চতায় তোলা হয়। সেখান থেকে তাকে একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানে নেওয়া হয়। বোয়িং ৭৫৭-এর পরিবর্তিত এই বিমানটি সাধারণত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ন্যাটো সম্মেলনের কাছে এক ব্যক্তিকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ দেখা গিয়েছিল বলে মার্কিন গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছিল।

গোপন বিমান বদলের সময় সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পারেননি। তারা আগের এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করেন এবং তাদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়।

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে এক মিডিয়া পুল প্রযোজক জানান, সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলায় বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। এক আলোকচিত্রী পর্দা সামান্য তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে ফেলতে বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও মূল বিমানে ছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের দুই বেনামি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তাদের মধ্যে ছিলেন।

প্রেসিডেন্টকে বহনকারী যেকোনো বিমানের কল সাইন সাধারণত এয়ার ফোর্স ওয়ান হলেও ওই ঘটনায় ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ বিমানটি রিচ ১৮ কল সাইন ব্যবহার করে। সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানটি এএফ১ কল সাইন ব্যবহার করতে থাকে, যাতে বিমান বদলের বিষয়টি গোপন রাখা যায়।

ট্রাম্প পরে সি-৩২এ বিমানে করে যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। এরপর কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরেন তিনি। তবে সি-৩২এ থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে কীভাবে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ইরানের তালিকায় তিনি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু এবং তার জীবনের ওপর সব সময়ই হুমকি রয়েছে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা বলেন, সাংবাদিকরা যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের। বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে informed সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here