এনসিপি নেতা কাফিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা

0
2
এনসিপি নেতা কাফিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে ওই জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে সেখানে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন।

এ সময় খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও অন্য শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখানো, ধাক্কাধাক্কি করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেন। এরপর সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটি ভোগদখলে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা রাজি না হওয়ায় থানায় যাওয়া হয়। পরে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। তিনি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেন, জমিটির মালিকরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে তিনি জমিটি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে তার কোনো সাক্ষাৎ বা কথাবার্তা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এটি কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here