নেত্রকোণা সদর উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের পলাতক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে নেত্রকোণা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপন মিয়া (৩৩) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান তিনি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
সালিসের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন।
তবে ভিডিও প্রকাশের পর ওই দিন সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, গ্রেপ্তার রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।