বয়স কিংবা ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ-কোনোটিই সাকিব আল হাসানের লড়াকু মানসিকতায় ছাপ ফেলতে পারেনি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে বল হাতে আবারও নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট, যা টি-টোয়েন্টি ফাইনালে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। সাকিবের এই পারফরম্যান্স অবশ্য জাফনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি!
সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একসময় ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল জাফনা কিংস। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই আর শেষ পর্যন্ত জমাতে পারেনি তারা। ১২৩ রানের ছোট সংগ্রহ গড়ে গল গ্যালান্টসের সামনে খুব একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি টুর্নামেন্টের সফলতম দলটি। শেষ পর্যন্ত ২৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপা জিতে নেয় গল।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জাফনা। শুরু থেকেই অবশ্য সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যায়নি ব্যাটিংয়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই হারায় দুই উইকেট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পাশাপাশি রান তোলার গতি নিয়েও সংগ্রাম করতে থাকে দলটি।
জাফনার ইনিংসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আসে কামিল মিশারা ও থমাস রজার্সের ব্যাট থেকে। মিশারা ৩২ বলে ৪১ রান করে দলের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হন। আর রজার্স ৩৪ রানের অবদান রাখেন। পরে চামিন্দু বিক্রমাসিংহে ১৬ বলে ২৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও দলের স্কোর বড় করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বল বাকি থাকতেই ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় জাফনা।
জাফনার ইনিংসে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটও হাসেনি। চার নম্বরে নেমে হৃদয় ১০ বলে করেন ১০ রান। অন্যদিকে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৯ রান। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার ক্ষত কিছুটা পুষিয়ে দেন বল হাতে। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন তিনি।
বিশেষ করে থমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানাকে একই ওভারে ফিরিয়ে জাফনার বড় সংগ্রহের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দেন সাকিব। নবম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম বলেই রজার্সকে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ওভারের শেষ বলে কালুপাহানাকে বোল্ড করে ফেরান বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ১৯ বলে ৩১ রান করা কালুপাহানার উইকেটটি ছিল জাফনার ইনিংসে আরেকটি বড় ধাক্কা।
এই পারফরম্যান্সে অবশ্য একটি ব্যক্তিগত অর্জনও হয়েছে সাকিবের। টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৭তম ফাইনাল খেলতে নেমে এটিই তার ক্যারিয়ারের সেরা ফাইনাল বোলিং। এবারের এলপিএলে চারটি ইনিংসে ব্যাট করে ৪১ রান করার পাশাপাশি ৯ ম্যাচে বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
অন্যদিকে ফাইনালে ব্যাট হাতে বিবর্ণ থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে হৃদয়ের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। পাঁচ ইনিংসে ৭৫.৫০ গড়ে ১৫১ রান করেছেন তিনি। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৮.৬৮।
১২৪ রানের লক্ষ্য গলের জন্য কঠিন ছিল না, তবে শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল জাফনা। প্রথম ওভারেই স্যাম হার্পারকে ফেরান মোহাম্মদ সিরাজ। পরের ওভারে ট্রাভিন ম্যাথুকেও ফিরিয়ে দেন চারিথ আসালাঙ্কা। ১০ রানে দুই উইকেট হারিয়ে গল কিছুটা চাপে পড়লেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
চামিকা করুনারত্নের ১৬, শাহান আরাচিগের ১৪ এবং অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৯ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে গল। এর আগে বল হাতে চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা তিনটি করে উইকেট নিয়ে জাফনার ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। থারিন্ডু রাথনায়েকে নেন দুটি উইকেট।
এলপিএলের আগের পাঁচ আসরে গলের কোনো দল তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপার দেখা পায়নি। ষষ্ঠ আসরে এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। গল গ্যালান্টসের প্রথম এলপিএল ট্রফির রাতে তাই জাফনার হতাশার সঙ্গে যোগ হলো বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব ও হৃদয়ের ব্যক্তিগত হতাশাও। সাকিব বল হাতে লড়াইয়ের বার্তা দিলেও শেষ হাসি হাসল গলই!