মাথার চুল বিক্রি করা রেহানার পাশে প্রতিমন্ত্রী, মিলল ঘর ও সহায়তা

0
3
মাথার চুল বিক্রি করা রেহানার পাশে প্রতিমন্ত্রী, মিলল ঘর ও সহায়তা

ঘরভাড়ার টাকা জোগাড় করতে নিজের মাথার চুল এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া বাগেরহাটের রামপালের অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার নির্দেশনায় রেহানার জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে তার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌস, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) অপু রায়হানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা রেহানার হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন।

এর আগে জানা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও হারিয়েছিলেন তিনি। ঘরভাড়া দেওয়ার টাকা জোগাড় করতে একপর্যায়ে নিজের মাথার চুল এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন।

রেহানা খাতুনের বয়স ৩০ বছর। তিনি রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকায় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘরের কাঠামো তৈরি করলেও টিনের ছাউনি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তার। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকতে হতো তাকে।

সংসারে অভাব-অনটনের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বোনের দায়িত্বও রয়েছে রেহানার ওপর। দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল তার।

সহায়তা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রেহানা খাতুন বলেন, ‘এখন আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। পরিবার নিয়ে সুখে সংসার করতে পারব, এমন আশা করছি। আপনারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এতে আমি অনেক খুশি। আমার একটি প্রতিবন্ধী বোন ও দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে যেন সুখে থাকতে পারি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, অভাবের কারণে রেহানা মাথার চুল বিক্রি করেছেন, এমন খবর পাওয়ার পর বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে জানানো হয়। তার নির্দেশনা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেহানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রেহানার নিজস্ব কোনো ঘর ছিল না। খোলা জায়গায় ঘর তৈরি করে তিনি বসবাস করছিলেন। এ কারণে সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে তাকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় তাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

ইউএনও আরও বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রেহানাকে যে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তার নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রেহানা ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here