শিক্ষার্থীকে পিকনিকের প্রলোভনে ডেকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

0
32

ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ, সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান। তার আগের দিন (২ ডিসেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন— দেলোয়ার ভূইয়া, তাজুল ইসলাম তাজ, শ্রাবণ শাহা, অন্তু দেওয়ান। চারজনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। অন্তু দেওয়ান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় ডেকে নেয়। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মজো’র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে ফুলেরটেক এলাকার একটি মেসে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন, তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। চিৎকার করলে অভিযুক্তরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।

ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, ৪ নভেম্বর আবারও তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। ৬ নভেম্বর অন্তু দেওয়ানের নির্দেশে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অন্তু দেওয়ানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ ও মারধর করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। আবারও জোর করে বোতলে থাকা নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়।

অসুস্থ অবস্থায় তিনি কোনোমতে ক্যাম্পাসে ঢুকে অচেতন হয়ে পড়েন। সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন; পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

চিকিৎসা শেষে ২৬ নভেম্বর দুপুরে ভুক্তভোগী ক্যাম্পাসে গেলে আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে ঢোকার পরপরই অভিযুক্তরা দরজা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে বিকেল ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া থানায় মামলা করতে বাধ্য হন।

ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, “এটা গত ৪ এপ্রিলের ঘটনা। ভুক্তভোগী চারজনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। ঘটনা জানার পর টানা ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছি। আগামীকাল তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি ও হুমকির সব অভিযোগ মামলায় যুক্ত আছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।