মেহেদি চাষ, গ্রামবাসীর বছরে আয় দেড় কোটি টাকা

দিন দিন বাজারে মেহেদি পাতার চাহিদা বাড়ছে। মেহেদি চাষে রোগবালাই কম হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে লাভজনক।

0
327

ঢাকার অদূরে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসি বাহেরচর গ্রামে মেহেদি চাষ এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। গ্রামটি এখন পরিচিত “মেহেদি নগর” নামে। মেহেদি চাষের মাধ্যমে এ গ্রামের অর্ধশত কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। বছরে এই মেহেদি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করছেন তারা।

শনিবার সকালে শ্যামলাসি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজ মেহেদি পাতার ক্ষেত। ভোর থেকেই কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত। মেহেদি চাষ কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নারী শ্রমিকরাও এই চাষে যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

মেহেদি চাষিরা জানালেন, দিন দিন বাজারে মেহেদি পাতার চাহিদা বাড়ছে। মেহেদি চাষে রোগবালাই কম হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার চারা রোপণ করা যায়, এবং বছরে অন্তত পাঁচবার ফসল তোলা সম্ভব। তবে শীতকালে উৎপাদন কিছুটা কমে যায়।

১৯৯৬ সাল থেকে মেহেদি চাষ করছেন মো. মেহেদী হাসান। তিনি জানান, দেশের বাজারে এই পাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক বাজারেও রপ্তানি সম্ভব।

আরেক চাষি পেয়ার আলী বলেন, “বর্গা নেওয়া জমিতে চাষ করে গত বছর প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করেছি। জমি ভাড়া ও খরচ বাদ দিয়েও ভালো মুনাফা হয়েছে।”

সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি মেহেদি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আমরা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করি। পোকার আক্রমণ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সঠিক সহযোগিতা পেলে মেহেদি চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।”

মেহেদি চাষিরা সরকারি প্রচারণা ও সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাষের প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দারুণ সুযোগ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here