অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রাহমান ও তার স্ত্রী সায়রা বানুর দীর্ঘ ২৯ বছরের সংসারজীবনের ইতি ঘটেছে। মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪০ মিনিট) এ আর রাহমান এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট দিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “ভেবেছিলাম আমরা ত্রিশে পৌঁছাব। কিন্তু মনে হয় সবকিছুরই এমন শেষ আছে, যা আগে থেকে বোঝা যায় না। ভাঙা হৃদয়ের ভার স্রষ্টার সিংহাসনও কাঁপিয়ে দিতে পারে। ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে সবকিছুর অর্থ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি। যদিও ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের টুকরাগুলো আর আগের জায়গা ফিরে পেতে না–ও পারে।”
বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে সায়রা বানু ও এ আর রাহমান তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন ‘মানসিক দূরত্ব’। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সায়রার আইনজীবী বন্দনা শাহ জানিয়েছেন, অনেক বছর একসঙ্গে থাকার পরও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, যা আর মেটানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “উভয়েই আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সম্পর্ক মেরামত করতে। কিন্তু দূরত্ব এত বেশি ছিল যে, তা পূরণ করা আর সম্ভব হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সায়রার জন্য সহজ ছিল না। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়।”
আইনজীবী বন্দনা শাহ আরও বলেন, তারকাদের বিচ্ছেদ সবসময় প্রতারণার কারণে হয় না। অনেক সময় পারিবারিক প্রভাব, আত্মীয়স্বজন বা অন্য সামাজিক বিষয়গুলোও দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে।
১৯৯৫ সালে মায়ের পছন্দে সায়রা বানুকে বিয়ে করেন এ আর রাহমান। দাম্পত্য জীবনে সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এতদিন সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে দিন দিন দূরত্ব বাড়তে থাকায় তারা বিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৯২ সালে তামিল ছবি ‘রোজা’ দিয়ে সুরকার হিসেবে পথচলা শুরু করেন এ আর রাহমান। বলিউডে অভিষেক ঘটে ১৯৯৫ সালে ‘রঙ্গীলা’ ছবির সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে।
ড্যানি বয়েলের ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ ছবির জন্য তিনি অস্কার, গ্র্যামি, বাফটা ও গোল্ডেন গ্লোব জেতেন। এছাড়া ভারতের ছয়টি জাতীয় পুরস্কারসহ আরও অনেক সম্মাননা রয়েছে তার ঝুলিতে।
বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে রাহমান তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাদের এই ব্যক্তিগত বিষয়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।


