গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান কামাল বলেছেন, আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন সর্বদাই সন্ত্রাস, কালোটাকা, দুর্নীতি রোধ এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। তাই যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে দল থেকে চলে গেছেন কিংবা নিষ্ক্রীয় হয়ে আছেন, তাদের সবার কাছে আহ্বান, সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই। পেশী শক্তি নয়, ষড়যন্ত্র নয়, দলের লক্ষ্য, আদর্শ ও উদ্দেশ্যই হবে আমাদের ঐক্যের ভিত্তি।
গণফোরামের সভাপতি বলেন, ১৯৯২ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘গণতান্তিক ফোরাম’ গঠিত হয়। এই ফোরামে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যুক্ত হন। ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক পংকজ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট আবদুস সবুর, মাওলানা আহমেদুর রহমান আজমী, সাংবাদিক এড. রনেশ মৈত্র, কৃষক নেতা খন্দকার ফজলুল হক (নরসিংদী), অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ (পটুয়াখালী), এড. তোবারক হোসেন (সিলেট), অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ (মৌলভীবাজার), কমান্ডার এম.এ. রউফ, অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট এস. আলতাফ হোসেন, শাহেদ আলী, অধ্যক্ষ এমদাদুর রহমান (রংপুর), অ্যাডভোকেট এমদাদ (চট্টগ্রাম), ইদ্রিস আলী (কক্সবাজার), অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন চৌধুরী (মানিকগঞ্জ), সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী (মানিকগঞ্জ) প্রমুখ নেতারা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে যুক্ত হন। কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকের নেতৃত্বে এম.পি শামসুদ্দোহা, নূরুল ইসলাম নাহিদ, নুহ-আলম লেনিন, শংকর বসু (রংপুর), শেখর দত্ত, ইঞ্জি. গোলাম মর্তুজা, ইঞ্জি. আবুল কাশেম, নারী নেত্রী আয়েশা খানম, শামসুন নাহার (টঙ্গী), খান সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে যুক্ত হন। একইভাবে গণতন্ত্রী পার্টির অ্যাডভোকেট কাহী আবদুস শহিদ লাল (যশোর), অ্যাড. খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ) ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে যারা যোগদান করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শেখ আবদুল আজিজ (প্রাক্তন মন্ত্রী), মতিয়ার রহমান (প্রাক্তন মন্ত্রী), মনোরঞ্জন ধর (প্রাক্তন মন্ত্রী), ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম (প্রাক্তন মন্ত্রী), নূরজাহান মোর্শেদ (প্রাক্তন মন্ত্রী), সাবেক এমপি জেনারেল খলিলুর রহমান, সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মো. জামাল উদ্দিন (ধামরাই) এমসিএ, ডা. আবদুল হাকিম, এম.আর সিপি (নীলফামারী), অ্যাডভোকেট আবদুল কাদের (নেত্রকোণা), অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (কক্সবাজার), প্রাক্তন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন (চট্টগ্রাম), অ্যাডভোকেট জানে আলম (চট্টগ্রাম), এনায়েত পীর (বরিশাল), অ্যাডভোকেট. এনায়েত হোসেন (খুলনা), আবেদ আলী (লালমনিরহাট), এড. হামিজুজ্জামান সরকার (প্রাক্তন এমপি, রংপুর), অ্যাডভোকেট খতিব উদ্দিন (দিনাজপুর), এনায়েতুর রহমান (সাবেক ডাকসু জিএস), ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি মাজহারুল হক বাকী, অ্যাডভোকেট বাসেদ মজুমদার, মোস্তাফা মহসিন মন্টু (প্রাক্তন এমপি), অ্যাডভোকেট সগীর আনোয়ার, আতাউর রহমান (মাদারীপুর), অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন (রংপুর), আফতাব হোসেন চৌধুরী (সিলেট), ডা. হাবিবুর রহমান সিটি, সাইদুর রহমান সাঈদ সিটি, অ্যাডভোকেট বাতেন সিটি, অ্যাডভোকেট সাজোয়ার হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), যুক্তরাজ্য থেকে মোকাব্বির খান (সিলেট), আবুল হাছান চৌধুরী (হবিগঞ্জ) নেতারা যুক্ত হন। জাসদ থেকে শাহজাহান সিরাজ, জাসদ থেকে ইঞ্জি. আবুল হোসেন (টাঙ্গাইল), অ্যাডভোকেট আখম শফিক উল্লাহ (লক্ষ্মীপুর), মোস্তাক আহমেদ (কুমিল্লা), রাবেয়া সিরাজ বিশিষ্ট নেতারা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একত্রিত হন। এছাড়া বিশিষ্ট এম্বাসেডর মোরশেদ আলী, জিয়াউল হক টুলু ও আবুল মাল আব্দুল মুহিদও যুক্ত হন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে দলের অনেক নেতারা আওয়ামী লীগে চলে যান এবং অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তবুও আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী সংগঠন গড়ে তুলেছি। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন আদর্শভিত্তিক ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী গণফোরাম, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণ আজাদী লীগ, সাম্যবাদী দলসহ ১১ দলের ঐক্য জোট গঠন করা হয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে গণচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয়।
মফিজুল ইসলাম খান কামাল বলেন, পরবর্তী সময় আমরা সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পার্টি বিকল্প ধারার সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করে দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহে আলোচনা সভা এবং মানিকগঞ্জে যমুনা বানভাসী মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করি।
কয়েকজন নেতা গণফোরাম থেকে বের হয়ে তথাকথিত এক কাউন্সিল করে দলীয় সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং একটি কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। নির্বাচন কমিশন তাদের স্বীকৃতি না দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম কমিটিকে বৈধতা করে। এরপর ঐ গ্রুপটি হাইকোর্টে রিট দাখিল করে। কিন্তু হাইকোর্ট তাদের আবেদনে সাড়া না দিলে তারা নিম্ন আদালতে নির্বাচন কমিশন ও ড. কামাল হোসেনকে প্রতিপক্ষ করে মামলা করে।
তিনি আরও বলেন, ২৭ অক্টোবর ২০২৩ গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় গণফোরামের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সাংসদ (১৯৭৩) মফিজুল ইসলাম খান কামালকে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গণফোরাম নেতা মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ বীর প্রতীক, ড. নীলিমা, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম ও অধ্যক্ষ উজ্জল ভৌমিক।


