বাংলাদেশের দ্বীপ জেলা ভোলা, যা ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে এক অনন্য জীবনসংগ্রামী সম্প্রদায়ের বসবাস। এরা বেদে বা মানতা সম্প্রদায় নামে পরিচিত। যুগের পর যুগ ধরে তারা তাদের নৌকাকেই ঘর বানিয়ে জীবনযাপন করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ভোলার খাল এলাকায় বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার অবহেলায় বসবাস করছে। এসব পরিবারের শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। জন্মনিবন্ধন সনদের অভাবে তারা সরকারি কোনো সুবিধা পায় না। বেদে সম্প্রদায়ের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নদীকেন্দ্রিক। এক নৌকায় বাবা-মা, সন্তানসহ একটি পরিবারের বাস। বেদে সম্প্রদায়ের কিছু পরিবার উপকূল এলাকায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে এবং সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। তবে, বেশিরভাগ পরিবার এখনও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাপনে বাধ্য।
৭০ বছর বয়সী বেদে আনোয়ারা বেগম বলেন, জলেই আমাদের জন্ম, জলেই বসবাস। বাবার নৌকায় বড় হয়েছি, এখন নিজের নৌকায় সন্তানদের নিয়ে আছি। নদীতে মাছ ধরেই দিন কাটে।

শাবনূর বেগম নামের এক বেদে জানান, ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলা করে নদীতে থাকতে হয়। আমার বাবা নৌকাতেই মারা গেছেন। আমিও এখানেই থাকব, আর আমার সন্তানরাও এখানেই বড় হবে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার মো. আল-আমিন জানান, বেদে সম্প্রদায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়ম-নীতির কারণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তাদের সহায়তা দিতে সমস্যা হয়।
তিনি আরো বলেন, বেদে সম্প্রদায়কে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসা না গেলে তারা যুগের পর যুগ বঞ্চনার শিকার হতে থাকবে। এই সম্প্রদায়ের জীবনকে উন্নত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করাই হতে পারে তাদের জীবনের বাঁকবদল।

