বাংলাদেশে গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ঘটেছে ব্যাংক খাতে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু বা ১৪টি মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব। সমস্যাগ্রস্ত ঋণের মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা স্বীকৃত খেলাপি ঋণ। পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, ৭৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ বিতরণ এবং ঋণ পুনঃতপশিল এই সংকটকে তীব্র করেছে। বড় শিল্প গ্রুপগুলো ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে। ‘হাই প্রোফাইল’ কেলেঙ্কারির কারণে উৎপাদনশীল খাত থেকে পুঁজি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে দুর্নীতির ভূমিকা রয়েছে। গত ১৫ বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং অতি মূল্যায়নের কারণে ক্ষতি হয়েছে।

