যে দুই অঙ্গের গুনাহে বেশি মানুষ জাহান্নামি হবে

যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার।

0
196

আমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ প্রদত্ত মহামূল্যবান নিয়ামত। এগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও শোকর আদায় করতে পারি। আবার এগুলোর তাড়নায় কিংবা এগুলোর বেঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।

এ কারণে মহানবী (সা.) আমাদের এগুলোর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে দুটি অঙ্গের অপব্যবহারের কারণে বহু মানুষ জাহান্নামে চলে যাবে।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আল্লাহভীতি, সদাচার ও উত্তম চরিত্র। আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ‌ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে রাসুল (সা.)-এর দুটি অঙ্গের ব্যাপারে তাঁর প্রিয় উম্মতদের সতর্ক করেছেন। এবং যে অঙ্গগুলো দ্বারা গুনাহ সংঘটিত হয়, এগুলো তার অন্যতম বলে নির্ণয় করেছেন।

মুখ দ্বারা মানুষ মিথ্যা বলে, গিবত করে, গালি দেয়, ধমক দেয়, হারাম খায় ও অপবাদ দেয়।

এ কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) এই অঙ্গের সঠিক ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৫)

রাসুল (সা.) যে দুটি অঙ্গ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, তার মধ্যে দ্বিতীয় অঙ্গটি হলো লজ্জাস্থান। পবিত্র কোরআনে যারা অঙ্গটির হেফাজত করে, তাদের সফল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(অবশ্যই সফল হয়েছে মুমিনগণ)… আর যারা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষিত রাখে।’(সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫)

অর্থাৎ প্রকৃত মুমিনের গুণ হলো, যৌনাঙ্গকে হেফাজত করা। তারা নিজের দেহের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে।  আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ আমি বললাম, এটি অবশ্যই বড় গুনাহ। এরপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে খাবে এই ভয়ে তাকে হত্যা করা।’ আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘এরপর তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জিনা করা।’(বুখারি, হাদিস : ৭৫২০)

মহান আল্লাহ সবাইকে এ দুটি অঙ্গের গুনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here