নারী নির্যাতন ও মানব পাচার বন্ধে নাটিকা প্রদর্শনী

এই নাটিকা শুধু একটি গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের বাস্তবতা। আমাদের সবার দায়িত্ব এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন হওয়া।

0
249

মানব পাচার একটি ভয়াবহ অপরাধ। প্রতিদিন নানা কৌশলে সংঘটিত এই অপরাধের শিকার হচ্ছেন অসংখ্য নারী। তাদের দুর্বল অবস্থা এবং সহিংসতার শিকার হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারী চক্র ফাঁদ পাতে। এই ভয়াবহতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মানিকগঞ্জে আয়োজন করা হয় বিশেষ নাটিকা প্রদর্শনী।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারাদিনব্যাপী মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এই আয়োজন করে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।

নাটিকাটিতে তুলে ধরা হয় মানব পাচার ও নারীর প্রতি সহিংসতার বাস্তব চিত্র। এতে দেখানো হয়, কীভাবে সহিংসতার শিকার নারীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারী চক্র তাদের প্রলোভনে ফাঁসায়।

নাটিকায় দেখানো হয়, একজন নারী কীভাবে সহিংসতার শিকার হয়ে পাচারের জালে আটকা পড়েন। তাঁর শারীরিক এবং মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারী চক্র তাঁকে বিদেশে চাকরির লোভ দেখায়। শেষ পর্যন্ত সেই নারী পাচারের শিকার হয়ে তার স্বাধীনতা হারান। বাস্তব গল্পের আদলে তৈরি এই নাটিকা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।

নাটিকার পাশাপাশি আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে পুঁথিপাঠ। নিরাপদ উপায়ে বিদেশ গমনের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় পুঁথিপাঠের মাধ্যমে।

স্থানীয় গৃহিণী নাসিমা বেগম, নাটিকাটি দেখে আমি শিখেছি, আমাদের নারীদের সচেতন হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চারপাশে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যা আমরা জানি না। এই ধরনের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কলেজ ছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, নাটিকার মাধ্যমে মানব পাচার এবং সহিংসতার বিষয়গুলো বুঝতে সহজ হয়েছে। অনেক সময় আমরা নিজেরাও ভুল করি। এখন জানলাম, কিভাবে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

আজিজুল হক বলেন, এই নাটিকা শুধু একটি গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের বাস্তবতা। আমাদের সবার দায়িত্ব এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন হওয়া। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।”

সুলতানা পারভীন বলেন, নাটিকা ও পুঁথিপাঠের মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝানো হয়েছে মানব পাচারের ভয়াবহতা। এবং দালালের মাধ্যমে বিদেশে গেলে কিভাবে পদে পদে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রামরু-র মিডিয়া ও কমিউনিকেশন অফিসার ফাবিহা ইদ্রিস বলেন, এ প্রদর্শনীটি সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে পরিচালিত আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের এই আয়োজনে আমরা নাটিকা ও পুথিপাঠের মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি।

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর অসিত ব্যানার্জী বলেন, মানব পাচার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। এমন উদ্যোগ কেবলমাত্র সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে না, বরং মানুষকে এর সমাধানে এগিয়ে আসার পথ দেখায়। মানব পাচার প্রতিরোধে এটি তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। আমাদের এই কার্যক্রম আরো ১০টি জেলাতে ক্রমোন্নয়ে করা হবে।

সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণী পেশা বয়সের মানুষের কলরবে মুখরিত ছিলো এ প্রদর্শনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here