নিজেকে সুস্থ রাখা এবং স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান থাকা প্রত্যেকের ওপর অবশ্য কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক বা অধিকার আছে।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৭০৩)। পরিমিত খাবার গ্রহণ এ হকের অন্তর্ভুক্ত। কতটুকু খাদ্য গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী, খাদ্য গ্রহণের পদ্ধতি কী?- সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
খাবারে অপচয় থেকে বেঁচে থাকা: আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু সীমাতিরিক্ত করো না। আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)। এখানে পরিমিত আহার গ্রহণ করার কথাই উদ্দেশ্য। তা ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত খাবারে নফসের কামনা পূর্ণ করা ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর, সঙ্গে সঙ্গে ইবাদতের স্পৃহাকেও ব্যাহত করে।
অতি আহার ক্ষতিকর: মাত্রাতিরিক্ত আহারকারীর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়াতে যেসব লোক ভূরিভোজ করে, তারাই হবে কিয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৩৫১)। অতি আহার বা অতি ভোজ মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাফের সাত পেটে আহার করে (অর্থাৎ বেশি পরিমাণ খায়) আর মুমিন এক পেটে আহার করে (অর্থাৎ কম খায়।)’ (বুখারি, ৫৩৯৩)
ইবাদতের স্বাদ নষ্ট করে: বেশি খাবার গ্রহণ ইবাদতে অমনোযোগিতা তৈরি করে। শরীরে ডেকে আনে অলসতা ও উদাসীনতা। রোগবালাই তো আছেই। ‘উমর (রা.) একদিন খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, ‘তোমরা অতিরিক্ত ভোজন থেকে বেঁচে থাকো। কেননা এটা নামাজে অলসতা সৃষ্টি করে এবং শরীরের জন্য কষ্টদায়কও বটে। তোমরা দৈনন্দিন খাবারে পরিমিত আহার করো। কারণ, এটা তোমাদের প্রাচুর্যের অহংকার থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের জন্য উপকারী হবে। ইবাদতে অধিক শক্তি জোগাবে। জেনে রাখবে, মানুষ তখনই ধ্বংস হয় যখন সে দ্বীনের ওপর নিজের খাহেশাত বা কামনা প্রাধান্য দেয়।’
খাবার গ্রহণের আদর্শ পদ্ধতি: খাবার গ্রহণের আদর্শ এবং অনুকরণীয় পদ্ধতি কী হবে তা ফুটে উঠেছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ হাদিসে। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ উদরের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। তাদের জন্য মেরুদণ্ডকে সোজা রাখে এই পরিমাণ কয়েক মুঠো আহারই যথেষ্ট। একান্ত যদি আরও বেশি খেতে হয়, তা হলে উদরকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাবারের জন্য বরাদ্দ করবে, আরেক ভাগ পানি পান করার জন্য, আরেক ভাগ শ্বাস নেওয়ার জন্য।’ (জামে তিরমিজি, ২৩৮০)

