ইবাদতমুখর হোক প্রতিটি ঘর

0
231

মুসলমানদের ঘরবাড়ি শুধু বসবাসের জায়গা নয়; বরং ঘরকে ইবাদত, শিক্ষা, আদর্শ ও শান্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসলামে। ইবাদত-বন্দেগি, আল্লাহর জিকির ও দ্বীনি তালিমের মাধ্যমে ঘরকে সজীব রাখতে হবে। পাপাচার থেকে ঘরকে মুক্ত রাখতে হবে। ঘরে কী কী আমল-ইবাদত করা যায়, সে সম্পর্কে এখানে আলোচনা তুলে ধরা হলো—

নফল নামাজ আদায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ঘরসমূহ কবরের মতো করে রেখো না (নফল নামাজসমূহ বাড়িতে আদায় করবে)। কারণ যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৭০৯)। মসজিদে নামাজ আদায়ের ফজিলত অনেক বেশি। কিন্তু সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে আদায় করা সুন্নত। (বুখারি, হাদিস: ৪৩২)

আল্লাহর জিকির: ঘরে সব সময় আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। এতে ঘরে বরকত ও রহমত নেমে আসে। পরিবারের মধ্যে শান্তি ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। শয়তানের প্রভাব দূর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কিছু মানুষ আল্লাহকে স্মরণ (আল্লাহর জিকির) করে, তখন ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখেন, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়। তাদের ওপর সাকিনা (ঐশী প্রশান্তি) নেমে আসে, আর আল্লাহ তাঁর নিকটতম ফেরেশতাদের সামনে তাদের কথা উল্লেখ করেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৭০০)

কোরআন তেলাওয়াত: প্রতিদিন ঘরে কোরআন তেলাওয়াত করা উত্তম কাজ। পরিবারের সদস্যদের মাঝে কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোরআন তেলাওয়াতে রয়েছে অনেক সওয়াব। এতে বরকত ও প্রশান্তি নেমে আসে। নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, ‘কোরআন ও ইহজগতে তার ওপর আমলকারীদের (বিচারের দিন মহান আল্লাহর সামনে) পেশ করা হবে। সুরা বাকারা ও সুরা আলে ইমরান তার আগে আগে থাকবে ও তাদের পাঠকারীদের সপক্ষে (প্রভুর সঙ্গে) বাদানুবাদে লিপ্ত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮০৫)

আরও পড়ুন: সুরা মুলক নামকরণের কারণ

ইসলামি শিক্ষা: ইসলামে ঘরকে তালিম ও শিক্ষার একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সন্তানদের ইসলামি আদর্শ শেখানোর উত্তম জায়গা ঘর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত ইসলামিক আলোচনা, হাদিস পাঠ ও কোরআনের তাফসির করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি, ৫০২৭)

দোয়া করা: ঘরে সকালে ও সন্ধ্যায় মাসনুন দোয়া, তাসবিহ-তাহলিল, দরুদ শরিফ ইত্যাদি পড়ার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

তাহাজ্জুদ নামাজের চর্চা: রাতে ঘরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করলে ঘরের পরিবেশ প্রশান্তিতে ভরে ওঠে এবং পবিত্র আলোয় আলোকিত হয়। পরিবারের সদস্যদের মাঝে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে উৎসাহিত করা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তারা রাতের বেলায় খুব কমই ঘুমায় এবং ক্ষমা প্রার্থনার জন্য রাতের শেষ ভাগে দাঁড়িয়ে থাকে।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮)

গুনাহের কাজ এড়িয়ে চলা: ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করতে হলে ঘরকে গান-বাজনা, হারাম ছবি প্রদর্শন, গিবত-পরনিন্দা ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে চায়, তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯)। ইবাদতের মাধ্যমে একজন বান্দা নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, জীবনকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করে চিরস্থায়ী সফলতা অর্জন করতে পারে। তাই ঘরকে শুধু বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট না করে সেখানে আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি তালিম করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here