প্রথমবারের মতো দেশে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস পালনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার এক বাণীতে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শহীদদের স্মরণে এখন থেকে প্রতিবছর দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হবে।
তিনি বলেন, “পিলখানায় সেনা সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই হত্যাকাণ্ডের সুবিচার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ।”
২০০৯ সালের এই দিনে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা সহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহটি ঢাকার পিলখানা থেকে শুরু হয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এ ঘটনার বিচারের মাধ্যমে বহু আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় এবং বাহিনীর সংস্কারের অংশ হিসেবে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বিজিবি রাখা হয়।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাত সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে।
এছাড়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এখন থেকে এই দিনটি আমাদের চেতনার অংশ হয়ে থাকবে। পিলখানার শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি যেন সঠিক পথে পরিচালিত হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “দুঃশাসন, ষড়যন্ত্র ও আত্মঅহংকার যেন আর কোনো প্রাণ কেড়ে না নেয়। বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও সুসভ্য রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”


