সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের দুই এলাকার অগ্নিকাণ্ডে সাড়ে ৫ একর ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ির টেপারবিল এলাকার দেড় একর এবং ধানসাগর টহল ফাঁড়ির তেইশের ছিলা-শাপলার বিল এলাকার ৪ দশমিক ৫ একর বনভূমি রয়েছে।
জানা গেছে, টেপারবিল ও তেইশের ছিলা-শাপলার বিল এলাকার বেশিরভাগ গাছ শুকিয়ে গেছে। বেশ কিছু বড় সুন্দরী গাছের পুড়ে যাওয়া গোড়ার অস্তিত্ব দেখা যায় তেইশের ছিলা-শাপলার বিলে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের তাপে শুকিয়ে যাওয়া এসব গাছ দ্রুতই মারা যাবে।
ডিএফও কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, ঘটনাস্থলে এখন কোনো আগুন নেই। তার পরও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য জোয়ারের সময় পানি ছিটানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে ফায়ার আউট ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরপর দুটি এলাকায় আগুন ধরার কারণে আমাদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আমরা দুটি স্থান ড্রোন ও জিপিএসের মাধ্যমে মনিটরিং করেছি। আপাতত সাড়ে ৫ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জিপিএসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ঘটনায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। তখন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
শনিবার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী বন টহল ফাঁড়ির টেপার বিলে আগুন লাগে। রাতভর চেষ্টায় রবিবার সকালে সে আগুন নেভাতে সক্ষম হয় বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। সুপ্ত আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী খুঁজতে বন বিভাগ ড্রোন ব্যবহার করে। তখন কলমতেজী থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে তেইশের ছিলা-শাপলার বিলে আগুনের অস্তিত দেখতে পান তারা। সে আগুনে সুন্দরবন পুড়েছে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। অবশেষে মঙ্গলবার বিকালের দিকে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

