কক্সবাজার সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এটি বিজিবির ইতিহাসে একদিনে ইয়াবা জব্দের সর্বোচ্চ রেকর্ড। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে ও দুপুরে উখিয়া ও রামু ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে এই ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে নজরদারি ও প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা থার্মাল ইমেজার ব্যবহার করে চোরাকারবারিদের গতিবিধি শনাক্ত করেন। বিজিবি সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নিলে কারবারিরা টের পেয়ে মাদকের বস্তাগুলো ফেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৩টি পোটলা উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত এই চালানের মূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
একই দিন দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। ওই স্থান থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের আরও ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক, জ্বালানি তেল ও সার পাচার রোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে উখিয়া ব্যাটালিয়ন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কেজি সারসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
জব্দকৃত মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে বিজিবির এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।