দেশের অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাম উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকৃষ্ট করেছে পর্যটকদের। তাই ঈদের পরেও নানা বয়সী মানুষ ও পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব দর্শনীয় স্থানে।
কেউ বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী -সন্তান,অনেজেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটো ভ্যান ও মাইক্রোবাসযোগে এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে উপভোগ করছেন ঈদের মোহনীয় মুহূর্তগুলো। তবে পর্যটকরা বলছেন, এইসব দর্শনীয় স্থানগুলো যদি আরো উন্নয়ন, সংস্কার ও আকর্ষণ বাড়ানো যায় তাহলে আরো আকৃষ্ট করবে পর্যটকদের ।
জানা যায়, এ জেলার ভিতরগড়ের প্রাচীন মহারাজা দিঘী, আটোয়ারীর ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুর শাহী মসজিদপাড়া, বারো আউলিয়ার মাজার শরীফ, বটেশ্বরী মন্দির, মিরগড়ের কাঠের সেতু, শুকানীর লোহার সেতু, হিমালয় বিনোদন পার্ক, তালমার রাবার ড্রাম, তেতুলিয়া ঐতিহাসিক জেলা পরিষদ ডাক বাংলো,তেতুলিয়ার পিকনিক কর্নার, তেঁতুলিয়া ইকোপার্ক, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতলের চা বাগান, তেতুলিয়া বাইপাস সড়কের ভারতীয় পিলার ও সমতলের চা বাগান, রওশনপুর মীনা বাজার, আনন্দধারা, আনন্দগ্রাম সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব পর্যটকরা। উপভোগ করছেন মনমুগ্ধকর এসব পরিবেশ। এছাড়া নতুনভাবে মাত্রা যোগ করেছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মিরগড় এলাকায় করতোয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক।

এ বিষয়ে কথা হয় বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসা আয়মান আসিফের সাথে। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেল যোগের ডাকবাংলাোয় ঘুরতে এসেছি। বন্ধুদের সাথে অনেক মজা করছি। তবে এই ডাক বাংলোর পরিবেশ যদি আরও উন্নত করা হতো তাহলে অনেক সৌন্দর্য প্রকাশ পেতো।
এদিকে একই কথা বলেন লিটন ইসলাম নামে আরেক পর্যটক, তিনি বলেন, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতলে চা বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি বন্ধুদের সাথে। ঈদের দিন ঘুরতে গিয়ে ছিলাম মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বারো আউলিয়ার মাজারে। তাই বন্ধুদের সাথে এখন এদিকে এসেছি ঘুরতে আসছি।
ব্যস্ততার মাঝেও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা ইমন -সোমা দম্পতি বলেন, শুধু ঈদ আসলেই আমরা একটু ঘোরাঘুরির সময় পাই। কিন্তু ঈদের দিন পরিবার ও পরিজনকে সময় দেওয়া ও বাড়িতে মেহমান আসার কারণে আমরা বের হতে পারিনি। তাই আজকে ঈদের দিন বের হয়েছি বেড়ানোর জন্য। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখছি।
এদিকে ঈদ আসলে আয় বাড়ে ভ্যান,ইজিবাইট,থ্রি হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। এ সময় প্রচুর পরিমাণে পর্যটক পরিবহন করেন তারা। যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে তাদের। দীর্ঘ একমাস পর্যটক না আসায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আর এসব দর্শনীয় স্থানে যখনই কোন পর্যটক আসছে তখনই এইসব যানবাহনের চালকরা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ কথা হয় জেলা শহরের অটোচালক হেলাল উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, রমজান মাসে একমাস বেকার সময় পার করেছি। কিন্তু ঈদের দিন থেকে অটো নিয়ে বের হয়ে পড়ি। রাস্তাঘাটে শহরে মানুষজন বের হয়। তাদের অটোতে পরিবহন করে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এ তুই যা আয় হচ্ছে তাদের সংসার চালাচ্ছি। অনেকে খুশি হয়ে বোনাসও দিচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবেত আলী বলেন,পর্যটকরা যেন কোন প্রকার হয়রানী বা সমস্যায় না পড়ে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্প নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যােগে নতুন পার্ক৷ বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসছেন এবং পঞ্চগড়ের পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখছেন।

