আজ রাতে ক্রিকেটবিশ্বের নজর থাকবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের দিকে। আইপিএলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দুই দলই এখন পর্যন্ত আইপিএলের ট্রফি ছুঁতে পারেনি। তাই আজকের ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন চ্যাম্পিয়নের নাম।
আইপিএলের শুরু থেকে আরসিবির জার্সিতে খেলে আসছেন বিরাট কোহলি। দুর্দান্ত সব মৌসুম কাটিয়েও অধরা থেকে গেছে সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। এর আগে তিনবার ফাইনাল খেলেও প্রতিবারই হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে বেঙ্গালুরুকে। এবার চতুর্থ চেষ্টায় ইতিহাস লিখতে মরিয়া দলটি।
বোলিং ইউনিটে এবার নতুন প্রাণ এনে দিয়েছেন জশ হ্যাজলউড। ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ফাইনালেও আরসিবির সবচেয়ে বড় অস্ত্র তিনিই। ব্যাটিংয়ে পুরনো ভরসা কোহলি ছাড়াও রয়েছেন রজত পতিদার, জিতেশ শর্মা, লিয়াম লিভিংস্টোন ও রোমারিও শেফার্ডের মতো আগ্রাসী ব্যাটাররা।
২০১৪ সালে একবার ফাইনালে উঠে ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ফিরে এসেছিল পাঞ্জাব। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে নেমেছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল। পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে উঠে এসেছে ফাইনালে। আইয়ার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলেছেন অনবদ্য ৮৭ রানের ইনিংস, যার ফলে দল জায়গা করে নিয়েছে শিরোপা লড়াইয়ে। মাঠের বাইরে কৌশলগত নেতৃত্বে রয়েছেন কোচ রিকি পন্টিং। ওপেনিংয়ে প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়ানশ আরিয়া দুর্দান্ত ফর্মে, মিডল অর্ডারে আইয়ার, স্টয়নিস, নেহাল ভাদেরা এবং শশাঙ্ক সিংরা প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করতে সক্ষম। বোলিংয়েও সমান শক্তিশালী পাঞ্জাব। আর্শদ্বীপ, চাহাল, জেমিসন, ব্রার, ওমরজাই — সবাই নিজেদের দিনে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
দুই দলই সমান শক্তিশালী, সমান ক্ষুধার্ত। আজ রাতের ফাইনালে শুধু একটাই প্রশ্ন— কে হাসবে শেষ হাসি? দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন এক আইপিএল চ্যাম্পিয়নের জন্ম দেখবে বিশ্ব ক্রিকেট। ইতিহাস গড়বে একটি দল, আরেকটি দল হয়তো আবারও হৃদয় ভাঙা গল্পে নাম লেখাবে।


