চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাটিং ধসের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের পথচলা শুরুর ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে মাত্র ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে অনায়াস জয় তুলে নেয় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (২৬) ও সাইফ হাসানের (৩৯) বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। অধিনায়ক হৃদয়, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের কেউ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। মাত্র ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে, তখন লোয়ার অর্ডারের শেখ মেহেদী হাসানের অপরাজিত ২৯ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশ কোনোমতে ১৩১ রান তুলতে সক্ষম হয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অভিজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও জুয়েল ডেভিস ৩টি করে উইকেট নেন; জাম্পা এই ম্যাচেই তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৩২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৩ রানেই ওপেনার জশ ইংলিশকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাকে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। এরপর মিচেল মার্শ মোস্তাফিজের শিকার হলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে ফেলে সফরকারীরা। ওয়ানডের দারুণ ফর্ম টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রেখে কুপার কনোলি খেলেন ২৭ বলে ৪৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তাকে আউট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের খাতা খোলেন বাংলাদেশের অভিষিক্ত স্পিনার আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
ম্যাচের শেষভাগে শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও সাকলাইনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টিম ডেভিড, অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরী ও রেনশো দ্রুত বিদায় নিলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে পুঁজি কম থাকায় তা কেবল অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেট বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় অজিরা। বাংলাদেশের পক্ষে অভিষিক্ত সাকলাইন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন এবং শরিফুল, মোস্তাফিজ, মেহেদী ও রিশাদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।