ঈদে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক

খাস জমি উদ্ধার করে গড়ে তোলা পার্ক হয়ে উঠছে জেলার নতুন পর্যটন কেন্দ্র

0
87

খাস জমি উদ্ধার করে গড়ে তোলা পার্ক হয়ে উঠছে জেলার নতুন পর্যটন কেন্দ্র

ঈদের ছুটিতে যখন চারপাশে উৎসবের আমেজ, তখন পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠা জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক যেন এক টুকরো চোখ জুড়ানোর শান্তির নাম হয়ে উঠেছে। বাঁশ-বেতের কারুকাজ, রঙিন ফুলের সারি, ফোয়ারার ঝলক আর দেশি–বিদেশি ফলদ গাছে সাজানো পার্কটিতে ঈদের দিন থেকে টানা কয়েকদিন উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

জানা গেছে, জেলার তেমন উল্লেখযোগ্য বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুবিন্যস্ত বিনোদন স্পটের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে এই ইকো পার্কের পরিকল্পনা নেয় জেলা প্রশাসন। প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কে রয়েছে ২০ হাজারের বেশি ফুল ও ফলের গাছ, কৃত্রিম লেক, পানির ফোয়ারা, বসার জায়গা ও হাঁটার পথ।

ইকোপার্ক সূ্ত্রে জানা যায়,ঈদের সময় ৩০ টাকার বিনিময়ে টিকিট কেটে পার্কে প্রবেশ করেছেন হাজারো দর্শনার্থী। ছোটদের জন্য রয়েছে খেলার জায়গা, আর বড়রা মুগ্ধ হয়েছেন প্রাকৃতিক পরিবেশে আড্ডা, ছবি তোলা ও ঘোরাফেরার সুযোগ পেয়ে।

ঈদের দিন পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে কিছু চাহিদার কথাও জানিয়েছেন তারা।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা সুমি আক্তার নামে এক দর্শনার্থী জানান, এই পার্কটা খুব সুন্দর। এত আয়োজন আমাদের মুগ্ধ করেছে। তবে যেহেতু অনেক গরম ও রোদ্র বেশী তাই খাবার পানির ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হতো।”

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রবিউল ইসলাম রাজু বলেন,আমাদের শহরে বড় ধরনের বিনোদন কেন্দ্র নেই। এই পার্কটা অনেক বড় স্বস্তি দিয়েছে। তবে টিকিটের দাম কমালে আরও বেশি মানুষ ঘুরতে পারবে।”

পার্কে ঘুরতে আসা আবু বকর সিদ্দিক সবুজ বলেন, প্রশাসনের এমন উদ্যােগকে আমরা সাধুবাদ জানাই৷ বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই পার্কটি৷ তবে পার্কে আরও কিছু রাইড আর ছোটদের জন্য খেলার জায়গা হলে পরিবারসহ আসার উৎসাহ বাড়বে।

পঞ্চগড়ের টুরিজম নিয়ে কাজ করা নর্থবাংলা ট্রাভেল এন্ড টুরিজমের নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসাইন বলেন,জেলা প্রশাসন ইকোপার্ক দর্শনার্থীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু বিনোদনই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পার্ক ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটখাটো ব্যবসা, ফুড কর্নার, ভ্রাম্যমাণ দোকান। আশপাশের মানুষের কর্মসংস্থানেও এসেছে পরিবর্তন।

ইকো পার্কের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা নয়ন তানবিরুল বারি জানান,”দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা নতুন নতুন রাইড ও স্থাপনা যোগ করার পরিকল্পনায় রয়েছি। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”

পার্কটির বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন,”এই জমিটি একসময় পতিত ছিল। এখন এটি জেলার মানুষের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। আমরা এই পার্ককে দেশের অন্যতম ইকো পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।”

ঈদ উপলক্ষে শুধুমাত্র ইকো পার্কেই নয়, ভিড় বেড়েছে জেলার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও। দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে তেঁতুলিয়ার জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, মহানন্দা নদীর পাড়, সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, অমরখানা মুক্তাঞ্চল পার্ক, দেবীগঞ্জ ডিসি পার্ক, ময়নার চর, মহারাজার দিঘী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। তবে সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ইকো পার্কই ছিল এ ঈদের সবচেয়ে আলোচিত ও ভিড়জমানো স্থান।

এই উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা হয়, তবে খুব শিগগিরই এটি দেশের অন্যতম পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here