গাজা নগরী পুরোপুরি দখলে নিতে সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা সদস্যকে তলব করেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রিজার্ভ সেনাদের মধ্যে অধিকাংশই সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। তবে মূল অভিযানে সক্রিয় সেনাদেরই বেশি ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে জায়তুন ও জাবালিয়া এলাকায় সেনারা অভিযান চালাচ্ছেন।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিরাপত্তা কেবিনেটে উপস্থাপন করা হবে।
কাটজ বলেছেন, ‘অভিযানের পর গাজা আর আগের মতো থাকবে না।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষিণ গাজায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। সেখানে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ৬০ হাজার নতুন রিজার্ভ সেনাকে ডাকা হয়েছে। এর বাইরে ২০ হাজার সেনার দায়িত্বকাল বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। ৫টি ডিভিশন এই অভিযানে অংশ নেবে। গিভাতি ব্রিগেড ইতোমধ্যে জাবালিয়া ও গাজা নগরীর আশপাশে অভিযান শুরু করেছে।
ইসরায়েল সেনাদের দাবি, তারা ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠ থাকা হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণে যেতে বলছেন।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, জায়তুন ও সাবরা এলাকায় গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবারও সেখানে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি পরিবারের তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা ছিলেন।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ‘গাজার দক্ষিণাঞ্চল অতিরিক্ত ভিড়ে বিপর্যস্ত এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য-ওষুধ নেই।’ জোর করে এত মানুষের স্থানান্তর আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে তারা সতর্ক করেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সাহায্য এখনো অত্যন্ত সীমিত। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

