ইউএস ওপেনের রানী সাবালেঙ্কা

0
57

ইতিহাস গড়লেন আরিনা সাবালেঙ্কা। ২০১৪ সালে কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের পর মাত্র দ্বিতীয় নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতলেন বেলারুশ তারকা।

নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোয় শিরোপা ধরে রাখার পথে ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের আমান্ডা আনিসিমোভাকে তিনি হারিয়েছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭/৩) গেমের সরাসরি সেটে। র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ানের এটি চতুর্থ গ্র্যান্ডস্লাম। চারটিই হার্ড কোর্টে- দুটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও দুটি ইউএস ওপেন।

স্ট্রেট সেটে আনিসিমোভাকে হারিয়ে সোজা দৌড়ে ছুটে গেছেন গ্যালারিতে। প্রেমিক জর্জিয়স ফ্রানগুলির ঠোটে চুমু এঁকে বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছেন সাবালেঙ্কা,‘আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা এখানে এসেছেন, যারা দূর থেকে উড়ে এসে আমার বক্সে ছিলেন। আমি আরও অনেক ফাইনালে খেলতে চাই। সেই সঙ্গে চাইব তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আমার পাশে থেকো।’

ফাইনালটি দুই খেলোয়াড়ের জন্যই মানসিক দৃঢ়তার বড় পরীক্ষা ছিল। মাত্র ৫৬ দিন আগে উইম্বলডনের ফাইনালে আমান্ডা আনিসিমোভা হেরেছিলেন ইগা সুইয়াটেকের কাছে। অন্যদিকে বছরজুড়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফরাসি ওপেনে হতাশাজনক পরাজয় সইতে হয়েছে সাবালেঙ্কাকে। এমনকি কোকো গফ এর কাছে হারের পর বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনের জন্য তাঁকে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল।

তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাবালেঙ্কা আবারও প্রমাণ করলেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। আনিসিমোভার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে শক্ত লড়াই করেও তাকে ঠেকানো যায়নি। জয় নিশ্চিত করার পর হাঁটু গেড়ে কোর্টে পড়ে যান তিনি, এরপর কোচিং স্টাফদের সঙ্গে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন।

এবারের ইউএস ওপেনের ফাইনাল তাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে কেবল একটি শিরোপা জয় নয়, বরং সাবালেঙ্কার মানসিক দৃঢ়তা, ধারাবাহিকতা ও ইতিহাস গড়া কৃতিত্বের কারণে। নারী সিঙ্গেলসের ফাইনাল চলাকালীন মাঝে মাঝেই ক্যামেরায় ধরা পড়ছিলেন ফ্রানগুলিস। ব্রাজিলের নাগরিক ফ্রানগুলিস ব্যবসায়ী। গ্যালারি থেকে সাবালেঙ্কাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। খেলা শেষে সাবালেঙ্কা আর অপেক্ষা করেননি। সোজা গ্যালারিতে ছুটে যান। কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের সকলকে জড়িয়ে ধরার পর শেষে ফ্রানগুলিসকে জড়িয়ে ধরেন সাবালেঙ্কা। দু’জন দু’জনের কানে কিছু বলছিলেন।