রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও রাসেল মোল্লা হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো গোয়ালন্দ উপজেলার অম্বলপুর গ্রামের মো. আব্দুল জলিল শেখের ছেলে ও গোয়ালন্দ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আবু সাঈদ (৪৫), এবং দেওয়ানপাড়া গ্রামের মো. কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. রাসেল শেখ (২৪)। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর থেকে মাওলানা আবু সাঈদ ও ঢাকার নাখালপাড়া থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাদের গ্রেপ্তার করে। বিকেলে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৬ জন পুলিশে ওপর হামলার মামলায় এবং ৮ জন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। সাতজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত সোমবার রাতে নুরাল পাগলার ভক্ত নিহত রাসেল মোল্লাকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো, ক্ষতিসাধন, চুরি ও জখমের অভিযোগে নিহতের বাবা আমজাদ মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৩৫০০-৪০০০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৬ জন এবং নিহত রাসেলের হত্যা মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপু, বিল্লু, সোহান সরদার, অভি মণ্ডল রঞ্জু, মাওলানা আবদুল লতিফ, মাওলানা আবু সাঈদ ও মো. রাসেল শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তৌহিদি জনতা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বিক্ষোভ থেকে হামলা চালানো হয় নুরাল পাগলার দরবার শরীফে। পাল্টা আক্রমণ চালান নুরাল পাগলের ভক্তরা। সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে নুরাল পাগলার দরবার শরীফে ঢুকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৩ আগস্ট মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা। এরপর তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে তাকে দাফন করেন এবং কবরের ওপর ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন যা সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলমানদের কেবলা কাবা শরীফের মতো দেখতে। এ নিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে তারা দরবারে হামলা চালিয়ে নুরাল পাগলের কবর ভেঙে দেন। এরপর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


