বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদ এবং তদূর্ধ্ব কমিশন্ড কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ আরও ৬০ দিন (দুই মাস) বাড়ানো হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বা সমমর্যাদার এবং এর ওপরের কমিশন্ড কর্মকর্তাদের—কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ—‘ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮’-এর ১২(১) ও ১৭ ধারার আওতায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এই ক্ষমতার মেয়াদ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তারা সারাদেশে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, এসব কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার আওতাধীন অপরাধ ও বিষয়াদি বিবেচনায় নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর তা সংশোধন করে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিমান ও নৌবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদেরও একই ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ৬০ দিনের জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ পরে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় দেশে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিলে ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সরকার। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পর পুলিশ কর্মবিরতিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে।

