বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

0
55

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোলা রোড এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে।

ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল জানিয়েছেন, তাঁরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষক আহত হননি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবনির্মিত বিটাক ভবনের মাঠে ফুটবল খেলছিলেন। খেলার সময় তাঁদের সঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ফয়সালকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। তিনি বিষয়টি নিজের ব্যাচের গ্রুপে জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।

এরপর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে জড়ো হন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন বিটাক ভবনের সামনে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। এতে অন্তত ১০-১২ জন আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে দুই বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পৌঁছান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আহত মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা গ্রুপে মেসেজ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি ফয়সালকে মারধর করা হচ্ছে। তাঁকে ছাড়াতে গেলে আমাকেও ঘিরে ধরে। পরে জুতা ফেলে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসি।’

অন্যদিকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, ‘দু’বার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। প্রথমবার থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পরে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১০-১২ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।’