জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় প্রদান করেন। মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে তৎকালীন তিন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ এবং রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
আদালত পর্যবেক্ষণে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে একটি নৃশংস ও পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো বড় হত্যাকাণ্ডের বিচারিক রায়, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মামলার বাকি আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।