নেপালে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত, নির্বাচনের ঘোষণা

0
73

নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল শুক্রবার গভীর রাতে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী ৫ মার্চ ২০২৬-এ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে জেন-জেড নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত আসে।

ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট পৌডেল দেশের প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নিয়োগ দেন। এর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি আন্দোলনের চাপের মুখে পদত্যাগ করেন।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধি সভা বিলুপ্ত করেছেন এবং ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।” শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সওয়া ৯টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে কার্কি শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট পৌডেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সহায় যাদব, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল।

ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তার আগে প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান এবং আন্দোলনরত তরুণদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দিনব্যাপী তীব্র আলোচনা হয়। গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ রাজনৈতিক অস্থিরতায় অন্তত ৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মাননীয় সুশীলা কার্কিজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। নেপালের ভাই-বোনদের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

রাজনৈতিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে আন্দোলন শুরু হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের বা তথাকথিত ‘নেপো কিডদের’ বিলাসবহুল জীবনযাপন। যেখানে সাধারণ নেপালি জনগণ বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যে জর্জরিত, সেখানে এ তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দামি গাড়ি, বিলাসবহুল ব্যাগ ও বিদেশ ভ্রমণের ছবি-ভিডিও প্রকাশ করছিল।

টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট ও এক্সে এ ধরনের কনটেন্ট ভাইরাল হয়। বিশেষ করে #PoliticiansNepoBabyNepal এবং #NepoBabies হ্যাশট্যাগে মিলিয়ন ভিউ জমে। আন্দোলনের গতি বাড়ে যখন সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

অবশেষে জেন-জেডের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী ওলি মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দোকানপাট খুলছে, সড়কে যান চলাচল ফিরছে এবং সহিংসতা দমনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে পুলিশ সদস্যরা আবার ব্যাটন হাতে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে নেপাল ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। কর্মসংস্থানের সংকট এতটাই তীব্র যে লাখ লাখ তরুণ জীবিকার জন্য মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স