ইয়েমেনে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা, বহু বেসামরিক নিহত

0
51

ইসরায়েল ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী হুদায়দা বন্দরে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি-অনুমোদিত আল মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব হামলা হুতিদের সামরিক কার্যক্রমের জবাবে চালানো হয়েছে। তবে হামলায় ডজন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

আল মাসিরাহ জানায়, মঙ্গলবার হুদায়দা বন্দরে মোট ১২টি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানান,

“আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর মোকাবিলা করছে।”

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বন্দরের সবাইকে নিরাপত্তার জন্য সরে যাওয়ার সতর্কতা দেয়।

রয়টার্সকে বন্দরের দুটি সূত্র জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল তিনটি ডক, যেগুলো আগের হামলার পর মেরামত করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হামলা প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী ছিল।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেন,

“হুতিরা যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে তাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে হুতিরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তারা লোহিত সাগরের জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। মঙ্গলবারও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এর পর পশ্চিম জেরুজালেমে সাইরেন বাজতে শুরু করে।

ইসরায়েল পাল্টা হামলায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে।

গত রবিবার হুতিরা ইসরায়েলের ইলাত শহরের রামোন বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে, যাতে দুজন আহত হন এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

গত বুধবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় সানা ও আল-জাওফ গভর্নরেটে বহু মানুষ নিহত হন। মঙ্গলবার নিহত ৩১ জন সাংবাদিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শত শত মানুষ অংশ নেয়।

গত মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাওয়ি নিহত হন, সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্যও মারা যান। এরপর হুতিরা প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

হুতিদের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।