সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে খেলার পথ বন্ধ: ক্রীড়া উপদেষ্টার স্পষ্ট নির্দেশনা

0
73

গত বছরের ৫ আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই জাতীয় দলে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ছিল। এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষ থেকে সাকিবকে দেশের হয়ে আর খেলতে না দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) দেওয়া হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারকা এই অলরাউন্ডারের জাতীয় দলে ফেরার অধ্যায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ দিন ধরেই সাকিব আল হাসান জাতীয় দলের বাইরে আছেন এবং দেশেও ফিরতে পারেননি। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। সম্প্রতি এই দুই ব্যক্তির মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও কথার লড়াই শুরু হয় গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাকিবের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান।

ওই পোস্টের পরই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে লেখেন, “একজনকে পুনর্বাসন না করায় সহস্র গালি দিয়েছেন আপনারা আমাকে। বাট আই ওয়াজ রাইট। ইন্ড অব দ্য ডিসকাশন।”

এর জবাবে সাকিব পাল্টা লিখেন, “যাক শেষমেশ কেউ একজন স্বীকার করে নিলেন যে তার জন্য আমার আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেওয়া হলো না, বাংলাদেশের জন্য খেলতে পারলাম না!”

এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদ আবার লিখেন, “ভাইয়া, আমাকে জোর করে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু নির্বাচনটাই করেছিলাম, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতিতে জড়িত হইনি। ইউ নো হু। যার হাত ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত, তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন- “তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেয়া বা বাংলাদেশের জার্সির পরিচয় বহন করতে দেয়া, এটা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সুযোগ করে দেয়া সম্ভব না। ইতিপূর্বে এটা আমি বোর্ডকে এভাবে না বললেও এখন বোর্ডের প্রতি আমার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে যে সাকিব আল হাসান কখনোই বাংলাদেশের টিমে আর খেলতে পারবেন না।”

এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় আসিফ মাহমুদ সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থানকে মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, সাকিব যতবার দেশে আসার জন্য চেয়েছেন, খেলার জন্য চেয়েছেন, ততবারই বলেছেন, ‘আমাকে জোর করে নমিনেশন দেয়া হয়েছে। আমি রাজনীতির সাথে জড়িত না।’ কিন্তু ক্রীড়া উপদেষ্টা মনে করেন, “আসল সত্যটা তো হচ্ছে, তিনি আসলে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টভাবে জড়িত, যার প্রমাণ আমরা পেলাম।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, মানি লন্ডারিং, ফিন্যান্সিয়াল ফ্রড করা কাউকে কেন শুধু ভালো ক্রিকেটার বলেই পুনর্বাসন করতে হবে? আইন সবার জন্য সমান, ফেস ইট।”