কৃষি উদ্যোক্তা, নারী ও কৃষকদের সহায়তায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গড়ার আহ্বান ড. ইউনূসের

0
99

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, নারী, কৃষক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলকে (আইএফএডি) একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার ইতালির রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ইভেন্টের ফাঁকে আইএফএডির প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “আমি আপনাদের একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানাই। এমন তহবিল দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, তরুণ, কৃষক, নারী ও মৎস্য খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেবে।”

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের কৃষিখাত ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিল্প গড়ে তোলা।

  • আম ও কাঁঠালের রপ্তানি সম্প্রসারণ।

  • জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি।

  • মহিষের দুধ দিয়ে মোজারেলা চিজসহ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে সহায়তা।

ড. ইউনূস আইএফএডি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং কৃষি, সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ করেন।

প্রত্যুত্তরে আইএফএডি প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে আইএফএডি বাংলাদেশের কৃষিখাতে অর্ধডজনেরও বেশি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।

প্রধান উপদেষ্টা ফল প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম সুবিধা এবং আম-কাঁঠালের বৃহৎ পরিসরে রপ্তানিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে আম রপ্তানি শুরু করেছি, তবে পরিমাণ এখনো কম। চীন বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ও কাঁঠাল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, বাংলাদেশের নারী দুগ্ধ খামারিরা মহিষের দুধ দিয়ে মোজারেলা চিজ তৈরি করছেন এবং তিনি এ খাত সম্প্রসারণে আইএফএডির সহায়তা চান।

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ নিয়ে আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে বাংলাদেশের জেলেরা এখনো অগভীর পানিতেই সীমাবদ্ধ। আইএফএডি এই খাতে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে ১৯৭৮ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে আইএফএডি মোট ৩৭টি প্রকল্পে অংশীদার হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ছিল ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি আইএফএডি অর্থায়ন করেছে। বর্তমানে ৪১২ মিলিয়ন ডলারের ছয়টি প্রকল্প চলমান আছে।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে অংশ নিতে রোমে গেছেন এবং সেখানে মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।