‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
33
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় ১৫ জন কিষান–কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন সরকারপ্রধান।

এর মধ্য দিয়ে আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরেক ধাপ এগোল বিএনপি সরকার। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খালখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করা মাত্রই টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে যায়।

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা পেলেন যারা-আবু কায়সার, রোমান, শাহনুর আলম, শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন তিনি। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তারেক রহমান শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। মঞ্চে উঠে তিনি কিষাণ-কৃষাণিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বিশেষ অতিথি রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু)। কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তার টাঙ্গাইলে প্রথম সফর। তাই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবিমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।

পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে এসে সোমবার সাংবাদিকদের জানান, কৃষক কার্ড বিতরণে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে ১১টি পয়েন্টে প্রি-পাইলটিং শুরু হবে। তারপর গিয়ে পাইলটিং হবে। এরপর বড় পরিসরে কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, শুরুতে দেশের ১১টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। এ কার্ডের মাধ্যমে বছরে দুই হাজার পাঁচশ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন তারা। আগামী চার বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ শেষ হবে বলে আশা করছেন কৃষিমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here