বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচনের ওপর দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতি নির্ভর করছে। তিনি মনে করেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র উত্তরণের একটা সুযোগ পেয়েছি। আমরা এখন মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারি, মুক্তভাবে কথা বলতে পারি।”
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সদর উপজেলা ও রুহিয়া থানা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে সামগ্রিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, ২০ হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনজন এমপিসহ সতের’শ নেতা কর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি যোগ করেন, “আমাদের রাজনৈতিক কর্মী যারা আছেন এখন অন্তত রাতে ঘুমোতে পারছেন।” তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক নেতাকর্মী দীর্ঘ ১৫ বছর কারাগারে ছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় সাজা পেয়েছেন। এছাড়া তাদের নেতা তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে, যার কারণে তিনি এখনো বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন পারছেন না।
গণতন্ত্র নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই, গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই। সুতরাং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আমাদের এ রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।” তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যেখানে অনেক মতামত থাকবে এবং সমস্ত মতামতগুলো এক হয়ে একটা জায়গায় এসে তবেই গণতন্ত্র বিকশিত হবে।
সংবাদকর্মীদের নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রাষ্ট্রের একটা বড় খুঁটি হচ্ছে দেশের সংবাদকর্মীরা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা মুক্তভাবে কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছেন। তিনি দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করার এবং নিরপেক্ষতার সাথে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।