মৃত জিম্মিদের মরদেহের জন্য যুদ্ধবিরতির ‘দ্বিতীয় পর্ব’ ঘোষণা ট্রাম্পের

0
65

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরকে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্ব বলে ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “গাজায় আটক জীবিত ২০ জন জিম্মির সবাই ফিরে এসেছে। এটা খুবই ভালো হয়েছে, কারণ আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করছিলাম।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, “যদিও একটি বড় সংকট কেটে গেছে, তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি। কারণ সমঝোতা চুক্তির প্রতিশ্রুতি ছিল মৃত সব জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে— তা এখনও ঘটেনি। তাদের অবশ্যই ফেরত দিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় এখন থেকে শুরু হলো।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই জিম্মিদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হামাসের কব্জায় ছিল ৪৮ জন। হামাস জানিয়েছিল, এদের মধ্যে ২০ জন জীবিত আছে, বাকি ২৮ জন মারা গেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও হামাস সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনার শর্ত ছিল, হামাসকে অবশ্যই জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মি এবং মৃত ২৮ জন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করতে হবে।

যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিন সোমবার হামাস নিজেদের কব্জায় থাকা জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মির সবাইকে মুক্তি দেয়। বিনিময়ে ইসরায়েলও কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মধ্যে থেকে ৩ হাজার ৭০০ জনকে ছেড়ে দেয়।

২০ জীবিত জিম্মিকে মুক্তির পাশাপাশি হামাস ৪ জন মৃত জিম্মির মরদেহও হস্তান্তর করে। তবে হামাস আগেই জানিয়েছিল যে তারা কিছু জিম্মির মরদেহের সন্ধান হারিয়ে ফেলেছে। হামাসের হাইকমান্ডের দাবি, মরদেহগুলোর ব্যাপারে যারা জানতেন তাদের হত্যা করা হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বা অন্য কারণে মরদেহগুলো যেখানে রাখা হয়েছিল, সেই স্থানের চিহ্ন হারিয়ে গেছে।

হামাস আরও জানিয়েছিল যে এসব জিম্মির মরদেহ খুঁজে পেতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে এবং ৭ থেকে ৯ জিম্মির মরদেহের সন্ধান আর কখনো পাওয়া যাবে না। এদিকে, ২৮টি মৃতদেহের পরিবর্তে মাত্র ৪টি ফেরত দেওয়ায় ইসরায়েল হামাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস যদি জিম্মিদের মরদেহ ফেরত না দেয়, তবে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখা ও গাজায় ত্রাণের প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে ইসরায়েলের সরকার।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি