আইনি ভিত্তি ও দায়মুক্তির দাবিতে মঞ্চে ‘জুলাই যোদ্ধারা’

0
45

আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সনদ স্বাক্ষরের মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার পর তাঁরা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করে মঞ্চে অবস্থান নেন এবং সনদের আইনি ভিত্তি ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তির দাবি তুলেছেন।

দীর্ঘ সাত মাসের সংলাপের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদ চূড়ান্ত করলেও, বাস্তবায়ন আদেশ, আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত থেকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সনদে সব দলের স্বাক্ষর করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): বাস্তবায়ন আদেশ ও আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা ছাড়া সনদে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তিনটি শর্তের নিশ্চয়তা চেয়েছেন: বাস্তবায়ন আদেশের ‘টেক্সট’ ও গণভোটের প্রশ্ন চূড়ান্ত করে প্রকাশ, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জারি এবং গণভোটের রায়ের পর ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কার্যকারিতা না থাকা।

বিএনপি: সনদে স্বাক্ষর করতে ইতিবাচক হলেও, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল জানিয়েছেন, তাদের বলা কথাগুলো লিপিবদ্ধ করা হলে এবং অঙ্গীকারনামায় নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত করার শর্ত পূরণ করা হলেই তারা স্বাক্ষর করবে। ৮ অক্টোবর সংলাপে এই দাবি জানালেও চূড়ান্ত সনদের অঙ্গীকারনামায় তা যুক্ত করা হয়নি।

বাম দলসমূহ: সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) আপত্তিসহ (নোট অব ডিসেন্টসহ) সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী: তারা অনুষ্ঠানে যাবে, তবে বাস্তবায়নের সুপারিশ দেখেই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।

আজ বিকেল ৪টার পরে জমকালো অনুষ্ঠানে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রতিনিধিদের জুলাই সনদে সই করার কথা রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পথরেখা তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দুই ধাপের সংলাপের ভিত্তিতে ৮৪টি প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়। এই ৮৪ প্রস্তাবের মধ্যে ৪৩টি সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে এবং বাকি ৪১টি অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা। দ্বিতীয় ধাপের সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের দুজন করে প্রতিনিধিকে সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করার জন্য কমিশন আমন্ত্রণ জানিয়েছে।