ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত: ৭ দফা অঙ্গীকারে রাজনৈতিক দলগুলো

0
107

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলগুলোর প্রতিনিধিরা এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। এই সনদে সাতটি মূল অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছে।

অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিম্নস্বাক্ষরকারী দলগুলো এই অঙ্গীকার করছে:

সনদের মূল সাত দফা অঙ্গীকার

১. পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত এই জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

২. সংবিধানে সংযোজন: জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসেবে গৃহীত এই সনদটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করা হবে।

৩. আইনি সুরক্ষা: সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না, বরং এর বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

৪. ঐতিহাসিক স্বীকৃতি: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

৫. বিচার ও পুনর্বাসন: গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও পরিবারকে সহায়তা, এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

৬. রাষ্ট্রীয় সংস্কার: সনদে লিপিবদ্ধ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা—অর্থাৎ সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

৭. দ্রুত বাস্তবায়ন: সনদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীরা হলেন:

  • বিএনপি: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • জামায়াতে ইসলামী: সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

  • নাগরিক ঐক্য: সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

  • এবি পার্টি: চেয়ারম‍্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

  • গণসংহতি আন্দোলন: প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন।

অংশগ্রহণ করেনি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সিপিবি-বাসদসহ চারটি বামপন্থি দল এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।