‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের মধ্যে এক ‘সামাজিক চুক্তি’: আলী রীয়াজ

0
47

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-কে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত একটি দলিল হিসেবে না দেখে এটিকে নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ‘সামাজিক চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, কষ্ট, ত্যাগ ও প্রচেষ্টার ফসল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যের প্রথম পদক্ষেপ।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক সংগ্রাম
অধ্যাপক আলী রীয়াজ দিনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিনব ও অনন্য মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শে রাষ্ট্র গঠনের যে প্রয়াস শুরু হয়েছিল, তা ৫৩ বছরে বহু বাধা সত্ত্বেও থেমে যায়নি।

তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে নিম্নলিখিত আন্দোলনগুলোর কথা স্মরণ করেন:

  • ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান

  • ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন

  • নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

  • সর্বোপরি ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান

তিনি যোগ করেন, ‘সেই ধারাবাহিক সাহস, চেষ্টা ও প্রেরণার উত্তরাধিকার হিসেবেই আজ আমরা এই জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি।’

সনদের গুরুত্ব ও লক্ষ্য
আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সনদে উপনীত হয়েছে। তিনি সমাজের নানা অংশ, কমিশনের কর্মচারী, গবেষক এবং গণমাধ্যমের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তাঁর মতে, এই সনদের ভিত্তি হলো জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের ত্যাগ। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল ‘রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ এবং ‘২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে নাগরিকদের দৃঢ়তা ও সাহসিকতার স্মারক’।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রচেষ্টা এক দিনে সফল হবে না, তবে এই দলিল দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং নাগরিক মতামতের আলোকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে দিকনির্দেশ দেবে।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ‘আমাদের স্রোত বহু, কিন্তু মোহনা একটাই—একটি স্বাধীন, ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত, বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। এই সনদ সেই ঐক্যের প্রথম পদক্ষেপ, এক নতুন মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।’

তাঁর মতে, এই অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা অপরিহার্য এবং আজকের সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ‘ঐতিহাসিক এক অধ্যায়ের সূচনা’।