খেলাপি ঋণ অবলোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

0
56

খেলাপি ঋণ অবলোপন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংককে এই নতুন নিয়মগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। 

নতুন নিয়মের মূল দিকগুলো:
অবলোপনযোগ্য ঋণ: যেসব ঋণ হিসাব ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে শ্রেণিকৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হবে, সেগুলো অবলোপন করা যাবে।
সময়ানুক্রমিক অগ্রাধিকার: নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো পুরনো ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিকর’ শ্রেণির ঋণগুলো আগে অবলোপন করতে পারবে।

ঋণগ্রহীতাকে অবহিত করা: ঋণ অবলোপন করার আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে। অবলোপনের কমপক্ষে ৩০ কার্যদিবস আগে এই নোটিশ দিতে হবে।

কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা: অবলোপন করা ঋণ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রণোদনা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী দিতে হবে।

প্রণোদনা নীতিমালা প্রণয়ন: যেসব ব্যাংকের এমন কোনো নীতিমালা নেই, তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে তা তৈরি করতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ঋণগুলো ব্যাংকের স্থিতিপত্রে বড় আকার ধারণ করে। এই নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে তাদের স্থিতিপত্র আরও পরিচ্ছন্ন করতে পারবে। তবে মনে রাখতে হবে, অবলোপন মানেই ঋণ মওকুফ নয়। ঋণগ্রহীতা তার সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবেই বিবেচিত হবেন।