জবি ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: সন্দেহভাজন ২ খুনি শনাক্ত, ছাত্রী বর্ষা আটক

0
68

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় টিউশনিতে এসে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন। রবিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন দুই খুনিকে শনাক্ত করেছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুবায়েদের ছাত্রী বর্ষাকে আটক করেছে পুলিশ।

জুবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।

জুবায়েদ হোসেন প্রায় এক বছর ধরে পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় ওই ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। রবিবার সন্ধ্যায় পড়াতে গিয়েই খুন হন তিনি।

অন্যদিনের মতো গতকাল সন্ধ্যায় জুবায়েদ পড়াতে গেলে স্থানীয় লোকজন ছয়তলাবিশিষ্ট ওই বাসার তৃতীয় তলার সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ফরেনসিক টিম আসার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে। তিনি ধারণা করছেন, জুবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

পুলিশ ওই ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছে। ফুটেজে কালো টি-শার্ট ও কালো ব্যাগ পিঠে দুই যুবককে দৌড়ে বংশাল রোডের দিকে যেতে দেখা যায়। পুলিশ ধারণা করছে, এরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারে। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

অন্যদিকে, ঘটনার পর জুবায়েদের ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। পরে রাত ১১টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্ষাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ছাত্রদল নেতারা ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, বিকালে মেয়েটি জুবায়েদকে কল দিয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। অথচ ঘটনার পরও ওই বিল্ডিংয়ের কেউ নাকি কিছুই জানে না।

জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। রাতে কর্মসূচিতে যোগ দেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

জবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য। আমরা শোকাহত।”

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস এবং কবি জসীমউদদীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম এই হত্যার দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং এই ব্যর্থতার দায় ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকেই নিতে হবে।