১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণা: শেখ হাসিনা ও কামালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

0
61

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন আগামী ১৩ নভেম্বর ধার্য করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঘোষণা দেন।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে সমাপনী বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তারা অভিযোগে আনা হত্যাযজ্ঞ, গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) প্রার্থনা করেন।

এর আগে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন টানা তিনদিনের যুক্তিতর্ক শেষে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চান। তিনি বলেন, “সাক্ষীদের বিবৃতি রাজনৈতিক প্রভাবিত, আর রাজসাক্ষী মামুন নিজের দায় এড়াতে মিথ্যা বলছেন।”

এই মামলায় ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে মোট ২৮ কার্যদিবসে। ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮,৭৪৭, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা এবং দালিলিক প্রমাণাদি ৪,০০৫ পৃষ্ঠা।

প্রসিকিউশন শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও দমননীতি’র নানা তথ্য তুলে ধরে বলে জানায়।

মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে নেওয়া হয়। তিনি নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদনে অভিযোগসমূহ দাখিল করা হয়।

টানা শুনানি শেষে ১৩ নভেম্বর মামলার রায়ের দিন ঘোষণা হওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন–সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।