সাগর-রুনি হত্যা মামলায় টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিল হইকোর্ট

0
48

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। মামলার বাদী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শিশির মনির এবং রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত চার সদস্যের টাস্কফোর্সটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন— পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার দুজন এবং র‌্যাবের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি টাস্কফোর্স। ফলে রাষ্ট্রপক্ষের নতুন আবেদনের ভিত্তিতে এখন আরও ছয় মাসের সময় বাড়ানো হলো।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে স্থানীয় পুলিশ, পরে ডিবি তদন্ত করে। এরপর হাইকোর্টের আদেশে ২০১২ সালের এপ্রিলে মামলাটি র‌্যাবের হাতে যায়।

কিন্তু র‌্যাব গত ১৩ বছরে একাধিকবার সময় চেয়ে তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “আমরা ২০১২ সালেই জনস্বার্থে রিট করেছিলাম, যাতে সাগর-রুনি মামলার খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু এত সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।”

হাইকোর্ট বলেছে, তদন্তের গতি সম্পর্কে আদালত অবগত হওয়ার জন্য টাস্কফোর্সের প্রতি মাসে অন্তত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুতের সুপারিশ করা হবে।