গুম-নির্যাতন মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আনা হলো ট্রাইব্যুনালে

0
24

টানা ক্ষমতায় থাকার সময় টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

হাজির হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন ও সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ।

বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করবে। প্রথমে প্রসিকিউশন এবং পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করবেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

১০ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে আনা ঘিরে হাইকোর্ট এলাকা এবং ট্রাইব্যুনাল ফটকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

গত ২৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির জন্য ৩ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। সেদিন সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও তাঁদের পক্ষের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন জানান। এ বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা।

ট্রাইব্যুনাল ওই দিন জানায়—আইন সবার জন্য সমান। সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রীরাও সশরীরে হাজির হচ্ছেন; তাই এ মামলার আসামিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

গুমের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়ানোর আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না। পরে তাঁকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি মৌখিকভাবে মামলায় না দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় গত ৮ অক্টোবর। এরপর অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পলাতকদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশের পরও তাঁরা না আসায় আদালত তাঁদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করে।