‘জ্বীন–ভূতের ভয়’ দেখিয়ে প্রতারণা: ‘ভূতের ব্যবসা’ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

0
86

আবারও আলোচনায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘ভূতের ব্যবসা’ চক্র। ফেসবুকে বুস্ট করা পোস্টের মাধ্যমে নারীদের টার্গেট করে জ্বীন–ভূতের ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে আসছিল এই সংঘবদ্ধ প্রতারক দল। রাজধানীতে করা এক মামলার পর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সবাই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার এক নারী ভুক্তভোগীর মাধ্যমে। তিনি ফেসবুকে ‘কোরআনিক শিফা’ নামের একটি পেজে “অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করার উপায়” শিরোনামের বুস্ট করা ভিডিও দেখতে পান। ভিডিওতে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য নিজেকে ‘তান্ত্রিক’ পরিচয় দিয়ে জানান, জ্বীনের মাধ্যমে তার সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

প্রথমে বিভিন্ন ‘তাবিজ-কবজ ও সামগ্রী’ কেনার নামে ওই নারীর কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তথাকথিত ‘কালো জাদু’র ছবি পাঠিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে চক্রের আরেক সদস্য ফোনে নিজেকে ‘জ্বীন’ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর সন্তানকে ক্ষতি করার হুমকি দেয়।

এই ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে ২১ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই নারীর কাছ থেকে মোট ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ১০৫ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে তিনি নিউমার্কেট থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে।

মামলার পর ৬ ডিসেম্বর এসআই মো. ফিরোজ আহম্মেদের নেতৃত্বে নিউমার্কেট থানার একটি দল ঢাকার জিগাতলা–রায়েরবাজার এলাকা থেকে ৫ জন এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করে। অভিযানে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১১টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ২টি বাটন ফোন জব্দ করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোলার বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ‘জ্বীন–ভূতের চিকিৎসা’, ‘তান্ত্রিক সেবা’ ইত্যাদির নামে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল এই চক্র।

মামলা, গ্রেফতার ও পুলিশের তথ্য প্রকাশের পর আবারও এই ‘ভূতের ব্যবসা’ চক্রটি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। পুলিশের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত আরও অনেক ভুক্তভোগী থাকতে পারেন।