‘গণহত্যা-দমন-পীড়নের দায় থাকা দলের জনপ্রিয়তা জরিপ কতটা নৈতিক?’— প্রশ্ন প্রেসসচিবের

0
146

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা ও সুসংগঠিত দমন-পীড়নের’ অভিযোগ নথিভুক্ত ইতিহাস হিসেবে রয়ে গেছে—এ অবস্থায় দলটিকে নিয়ে জনপ্রিয়তা জরিপ চালানো কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে মতামত জানান।

স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম লেখেন, বিশেষজ্ঞদের মতে এমন জরিপ কোনো নিরপেক্ষ গবেষণা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে একটি দলের “অপরাধমূলক অতীতকে স্বাভাবিকীকরণ” করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, যে দলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দমন-পীড়নের দায় রয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি—পুনর্বাসন নয়।

তিনি লিখেছেন, ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগই ভয়-নির্ভর রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছিল—এটা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী সমাবেশে হামলা, হত্যা-আহত, রাস্তা দখল, আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ প্রবাহ—এসব ছিল নিয়মিত চিত্র; রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতায় সাধারণ মানুষ এক আতঙ্কগ্রস্ত বাস্তবতায় বসবাস করেছে।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্লেষকদের মতে শেখ হাসিনার সরকার “জনতার ভয়ের ওপরই ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল” বেছে নিয়েছিল। তার মন্তব্য, গত জুলাই-আগস্টের দমন-পীড়ন দিয়ে যদি আন্দোলনকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো আরও দুই দশক ক্ষমতায় থাকা সম্ভব ছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্ম সেই ভয় অগ্রাহ্য করে রাস্তায় নেমেছিল, শেষ পর্যন্ত সরকারও বুঝতে বাধ্য হয়—“গণহত্যা কোনো টিকিয়ে রাখার অস্ত্র নয়।”

এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি জনপ্রিয়তা জরিপ কি ইতিহাস মুছে ফেলতে পারে? একটি দল আজ ১০ শতাংশ না ২০ শতাংশ সমর্থন পায়—এ মূল্যায়ন কি সত্যিই অর্থবহ?” তার মতে, এ প্রশ্ন আরও তীব্র হয় যখন ফাইয়াজের কথা মনে পড়েছে—যে তরুণ ছাত্রকে আন্দোলনের সময় যুবলীগ–ছাত্রলীগের হামলায় প্রাণ দিতে হয়েছিল, কিংবা ‘জুলাই বিপ্লবে’ জীবন দেওয়া অসংখ্য মানুষের স্মৃতির প্রতি এটি কি অবমাননা নয়?

শফিকুল আলম লেখেন, বিশ্লেষকদের অভিমত—জরিপ ভবিষ্যতে অবশ্যই প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তার আগে চাই জবাবদিহি। তার বক্তব্য, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে আইনি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, দলকে নিজেদের ইতিহাস প্রকাশ্যে ও স্বচ্ছভাবে স্বীকার করতে হবে—কোনো অজুহাত ছাড়া। জবাবদিহি হতে হবে ‘স্বাভাবিকীকরণের পূর্বশর্ত’ হিসেবে; অন্যথায় এটি হবে দেশের গণতান্ত্রিক জাগরণের বিনিময়ে জীবন দেওয়া মানুষদের প্রতি অবমাননা।