১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

0
24

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় অর্জন করে। এই দিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। তাদের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক—এই কামনা করি।’

তিনি বলেন, ‘এই দিনে স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন—সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতিও রইল আমার সশ্রদ্ধ সালাম।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে বিজয়ে উপনীত হয়। অদম্য সাহসিকতায় জীবনবাজি রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধারাই এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ ও বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন।’

তিনি বলেন, ‘শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মূল প্রত্যয়। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই আদর্শকে ধ্বংস করে জনগণের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়েছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত এখনও চলমান। আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করছে। তাদের দেশীয় দোসররা অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিলুপ্ত করা হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গণতন্ত্রহীন পরিবেশে ক্ষমতা জবরদখলকারীরা নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে জনগণকে আতঙ্কিত করেছে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করেছে। যিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন—সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকেও অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা জেগে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে নির্বিঘ্ন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে এই বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—বিভাজন ও বিদ্বেষ ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

শেষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।